'সাহায্য না করলে হামরা আবাদ করব্যার পাবার নই'

প্রকাশিত: ১২ই অক্টোবর ২০২০ ০৪:৩১:১১ | আপডেট: ১২ই অক্টোবর ২০২০ ০৪:৩১:১১ 15
'সাহায্য না করলে হামরা আবাদ করব্যার পাবার নই'

বাঁন্ধ ভাঙি যায়য়া হামার সউগ ক্ষ্যত বানে খায়য়া গেইছে। এলা সরকারি সাহায্য না করলে হামরা কিছু আবাদ করব্যার পাবার নই।'

কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব গ্রামের কৃষক গাজীবর। বন্যায় অন্য কৃষকদের মতো তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চড়া সুদে নেওয়া দাদনের টাকায় আমন রোপণ করে এখন নিঃশ্ব অনেক ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গাচাষি। ক্ষতি পোষাতে রবিশস্য চাষের জন্য সরকারি সহায়তার আশায় তাকিয়ে আছেন এসব কৃষক।

জানা গেছে, পাঁচ দফা বন্যায় ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে কুড়িগ্রামে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার কৃষক পরিবার। ক্ষতির পরিমাণ ২৪৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে পরপর পাঁচ দফা বন্যায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির আমন, সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির আউস ও এক হাজার হেক্টর জমির বীজতলাসহ ২১ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৪৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৯৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার আমন, ৪৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার আউস, ১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বীজতলা ও ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকার সবজি রয়েছে।

আগাম বন্যায় বীজতলা নষ্ট ও পুঁজির অভাবে আমন আবাদ নিয়ে সংকটে পড়েছিলেন কৃষকরা। তার পরও চড়া সুদে দাদন ও আর ধার-কর্জ করে আমনের আবাদ করেছিল  অনেক ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গা চাষি। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম দফা বন্যা তাঁদের শেষ স্বপ্নটুকু নিঃশেষ করে দেয়।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চর বড়লই গ্রামের বর্গাচাষি বাদশা মিয়া জানান, দিনমজুরি আর রিকশা চালিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে আরো পাঁচ হাজার টাকা দাদন নিয়ে চার বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ দফা বন্যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক শামসুল আলম আমনের চারা কিনে ১২ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে আমন চাষ করে এখন নিঃশ্ব। তাঁর ক্ষেতের ফসল এখন কাদা-পানিতে লুটোপুটি।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, বাজারে ধান চালের চড়া দাম আর কাজের অভাবে কেনার সংগতি হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। ঘরে সামান্য চাল রয়েছে কারো কারো। কেউ কেউ মোটা চাল ৪৩ টাকা কেজিতে কিনছেন। ফলে ধারদেনায় ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামীতে বোরো বা রবিশষ্য চাষের সামর্থ্য নেই। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মনে করেন, রবিশস্য চাষে সরকারি প্রণোদনা পেলে তাঁরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ জানান, সরকারিভাবে বেশকিছু কৃষককে আমনের চারা সহায়তা দেওয়া হলেও শেষ দফা বন্যায় তাও নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে আমন চাষের সময় নেই। তাই রবিশস্যে প্রণোদনা দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে চাষিদের মাঝে তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হবে।

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )