ন্যাটোতে যাওয়ার আগ্রহ নেই ইউক্রেনের: জেলেনস্কি

প্রকাশিত: ১২ই এপ্রিল ২০২২ ০৭:৪৫:০০
ন্যাটোতে যাওয়ার আগ্রহ নেই ইউক্রেনের: জেলেনস্কি

ন্যাটোর সদস্য হতে আর ইচ্ছুক নন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করে ন্যাটো ইউক্রেনকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় বলে জানান তিনি।

এবিসি টেলিভিশনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে জেলেনস্কি বলেছেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিষয়েও ছাড় দিতে রাজি আছেন তিনি। অর্থাৎ এ দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাশিয়ার যে দাবি, সেটি তিনি মেনে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই দুটি অঞ্চলকে রাশিয়া ছাড়া আর কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। তবে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। এই অঞ্চল দুটি কীভাবে থাকবে, সে বিষয়ে সমঝোতার উপায় খুঁজতে পারেন।এদিকে গতকাল পর্যন্ত ইউক্রেনে ক্রমেই আক্রমণ বাড়িয়েছে রাশিয়া। বিভিন্ন শহর-নগর অবরুদ্ধ করে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। বাড়ছে যুদ্ধের তীব্রতা, বিপন্ন হচ্ছে মানবিকতা। সহিংসতা থেকে বাঁচতে জীবন নিয়ে পালাচ্ছে মানুষ।

এদিকে, ইউক্রেনে তৃতীয় দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মানবিক কোরিডোর নিশ্চিতে কিয়েভ, চেরনিহিভ, সুমি, খারকিভ এবং মারিওপোলে কার্যকর হচ্ছে এই যুদ্ধবিরতি। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কার্যকর হচ্ছে তৃতীয় দফার যুদ্ধবিরতি। রাশিয়ার ক্রমাগত বোমা হামলায় আগের দুইটি যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের।

দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালো ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন। বুধবার সকালেও রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে শোনা গেছে বিমান হামলার সতর্কতার সাইরেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের অন্তত ৬১ টি হাসপাতালে হামলার অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরমধ্যে খারকিভের নিকটবর্তী ইজুওম শহরের প্রধান হাসপাতাল রয়েছে।

এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজার ২০৭ জন বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার লিজ থ্রোসেল বলেন, এর মধ্যে ৪০৬ জন নিহত ও ৮০১ জন আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। বেশিরভাগই বিমান হামলা ও বিস্ম্ফোরণে হতাহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছেন।

ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তৃতীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মানবিক কোরিডোর নিশ্চিতে কিয়েভ, চেরনিহিভ, সুমি, খারকিভ এবং মারিওপোলে কার্যকর হচ্ছে এই যুদ্ধবিরতি। এরআগে মঙ্গলবার সুমি থেকে ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় রাশিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করার আহ্বান জানান জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের বাঁচাতে আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানো হবে। আমরা চাই আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো রাশিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেয়া হোক। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে, রাশিয়ায় নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্বের অন্যান্য নামকরা ব্র্যান্ড কোকা কোলা, পেপসি ও ম্যাকডোনাল্ডসও।

এদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা করেছে চীন, ফ্রান্স ও জার্মানির সরকার প্রধান। এসময় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্ততা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। আহ্বান জানানো হয় সর্বোচ্চ সহনশীলতার।

এর আগে, ইউক্রেন ইস্যুতে জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পোল্যান্ড যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানালেও এ পদক্ষেপ কার্যকরী নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘ বলছে, রুশ আগ্রাসনের পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে চারশোরও বেশি ইউক্রেনীয়র মৃত্যু হয়েছে। হাজার ছাড়িয়েছে আহতের সংখ্যা। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধে ইউক্রেন ছেড়েছে ২০ লাখ মানুষ। এরমধ্যে আট লাখই শিশু ।

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )