ময়মনসিংহের ৩ কিশোরী ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছে পর্তুগাল

প্রকাশিত: ২৯শে এপ্রিল ২০২২ ০৯:১৩:৪৫
ময়মনসিংহের ৩ কিশোরী ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছে পর্তুগাল

ময়মনসিংহের নান্দাইলের মেয়ে স্বপ্না, তানিশা ও শিখা। তিনজন কিশোরীই দরিদ্র পরিবারের সন্তান,তারা বাংলাদেশের হয়ে ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্চে পর্তুগাল। দরিদ্রকে পেছনে ফেলে অদম্য সাহসী তিন কিশোরী সংগ্রামের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের দিকে।

সিনহা জাহান শিখা উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রাম বিপ্লব মিয়ার মেয়ে, স্বপ্না আক্তার জিলি শেরপুর ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের ফয়জুউদ্দিন ও তানিয়া আক্তার তানিশা মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে। তিন কিশোরী ফুটবল দলের প্রশিক্ষণের জন্য ইউরোপের দেশ পর্তুগালে যাচ্ছে।

এদিকে তিন স্বপ্নবাজ কিশোরী পর্তুগাল যাওয়ার খবরে আনন্দ বইছে এলাকায়। আগে যারা কিশোরীদের নিয়ে মন্তব্য করতেন এখন তাদের মুখেই কিশোরীদের সফলতার গল্প। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ড কার্প টুর্নামেন্ট ২০১৮ সালে রানার্সআপ পরের বছর টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় নান্দাইল উপজেলার শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সে চ্যাম্পিয়ন দলে সদস্য ছিল তিন কিশোরী। তারা তিনজনই বর্তমানে নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অধ্যয়নরত।

জানা যায়, বঙ্গমাতা নারী ফুটবলের সেরা ৪০ খেলোয়াড়কে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে। ৪০ জনের মধ্য থেকে ১৭ জন বাছাই করা হয়। বাছাইকৃতরা আগামী জুলাইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালে যাবে। এদের মধ্যে ১১ জন মূল দলে আর ৬ জন অতিরিক্ত। তারা সেখানে গিয়ে ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিবে। শিখা, স্বপ্না খেলবে মূল দলে আর তানিশা অতিরিক্ত ৬ জনের দলে থাকবেন।

শিখা ছোটকাল থেকে খেলাধুলায় আগ্রহী ছিলেন। ফুটবল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেন। সে থেকেই কোচ প্রশিক্ষক মগবুল হোসেনের মাধ্যমে উপজেলা,জেলা, বঙ্গমাতা গোল্ড কার্প সহ বিভিন্ন পর্যায়ে খেলতো। সদরে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে এতে আসা যাওয়ার ৭০ টাকা খরচ হতো। এই টাকা গুলো বাবা ও নানা ডিম বিক্রি করে দিত। অনেক কষ্টে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। পর্তুগালের প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দলে খেলা ইচ্ছা আছে তার । এ জন্য সবার কাছে দোয়া চায় সে।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে তানিশা আক্তার তানিয়া। বাবা দিনমজুর অন্যের জমিতে কাজ করেন। সংসারে এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিন পার করেন তারা। স্থানীয় কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে বর্তমানে নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

তানিশা ২০১৮ সালের মায়ের সঙ্গে নান্দাইল শপিং করতে গিয়েছিল। তখন চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিস দেখে তারও খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। পরে প্রশিক্ষণ কোচ মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে সেও প্র্যাকটিস শুরু করে। সে ২০১৮ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে ভালো খেলে। এখন পর্তুগালে যাচ্ছি খুব ভালো লাগছে। আমার বাবা দিনমজুর আমার এটা ঘর নেই। টাকা ইনকাম করে একটি ঘর বানাতে চাই। মায়ের গলায় সমস্যা অপারেশন করাতে হবে।

উপজেলার থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে শেরপুর ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের ফয়জুউদ্দিন ফকিরের মেয়ে স্বপ্না আক্তার জিলি। বাবা কৃষি কাজ করেন। আর স্বপ্না নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন।

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )