শিক্ষায় সকলের অভিগম্যতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: শিক্ষা মন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২ই অক্টোবর ২০২০ ১১:০৮:০৬ | আপডেট: ১২ই অক্টোবর ২০২০ ১১:০৮:০৬ 17
শিক্ষায় সকলের অভিগম্যতা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: শিক্ষা মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেছেন, সরকার ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ করেছে। পাঠক্রমে যুগোপোযগী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার, নারী- প্রতিবন্ধী-বান্ধব শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষায় সকলের অভিগম্যতা যেন থাকে সেটাই সরকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০২০ উপলক্ষে বেসরকারি উন্নয়ণ ও গবেষণা সংস্থা ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’ আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিক কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য, ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি, রুম টু রিডের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার। রুম টু রিড বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোকসানা সুলতানা মেয়েশিশুদের শিক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রমের আওতায় গৃহীত দূরশিক্ষন পাশাপাশি নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রুম টু রিড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ফাহ্মিদা হামিদ এ্যানি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সমন্বিতভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া আয়োজন করা হবে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ করা হবে সেটি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের নানা ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বলার মতো সময় এখনও আসেনি। সময়মতো সব ব্যবস্থাগ্রহণ করে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেয়া হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরীর কারণেই আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে সবার এই ভার্চুয়াল সভায় একত্রিত হতে পেরেছি। এখন দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ কোটি ৭০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৭৮ হাজার টাকা প্রতি এম.বি.পি.এস. থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০০ টাকা করেছেন দেখেই এই করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, বিচারিক কার্যক্রম আমরা ভার্চুয়ালি চালিয়ে যেতে পারছি। আজকের জীবন ও জীবিকা দুটোই সুরক্ষা করে কিভাবে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া যায় সেটাতে আমরা সফল হয়েছি । এখন দেশের মোট ৬০-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘরে বসে সংসদ টিভির মাধ্যমে আমাদের এই ডিজিটাল শিক্ষা গ্রহণ করেছে। বাকি ৩০ শতাংশ যাদের হয়তো ইন্টারনেট সংযোগ নেই তাদের জন্য আমরা ৩৩৩ এই হেল্পডেস্ক এর মাধ্যমে কিন্তু আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছি ।

রাখী সরকার বক্তব্যে বলেন, ২০২০ মানবজাতির ইতিহাসের অন্যতম চ্যালেঞ্জযুক্ত বছর। করোনা মহামারী কারণে বিশ্বের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই শিশুদের ঘরে থাকাকালীন তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে এবং স্কুলগুলি পুনরায় খোলা হলে তাদের যথাযথভাবে সহায়তা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত করার জন্য আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। রুম টু রিড বাংলাদেশ মেয়েশিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সম্পূর্ণকরণে ও জীবনে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অংশীসংগঠন ও সরকারের সঙ্গে। আমরা ঢাকা, নাটোর এবং কক্সবাজারের ৫ হাজার মেয়ের সাথে কাজ করছি যারা এই মহামারী চলাকালীন তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমরা এই জরুরি অবস্থায় আমাদের মোট কভারেজ থেকে প্রায় ৩ শতাংষ মেয়েদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )